দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। সূচক বাড়লেও এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন সামান্য কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৭ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪ হাজার ৮৮৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৮৮৩ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে সামান্য কমে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৩১টির, কমেছে ১১৩টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৩৫৪ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে যা ছিল ৩৫৮ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১ দশমিক ২১ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ১০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে পাঁচটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে। এছাড়া করপোরেট বন্ড খাতে ২ দশমিক ২৫ ও জীবন বীমা খাতে ২ দশমিক ১৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে। এছাড়া সিমেন্ট খাতে ১ দশমিক ১২ ও টেলিযোগাযোগ খাতে দশমিক ৯৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৬৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩ হাজার ৬৪৩ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৪১০ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৪১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৪টির, কমেছে ১০৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির।